মার্চ ৮, ২০২৩
’৭১ এর বীরাঙ্গনা রাজুবালার মৃত্যুতে নারীপক্ষ থেকে গভীর শোক জ্ঞাপন করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়

স্মারক নং- না.প- ১২/২০১৭- ২০৫

২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪/১৩ ডিসেম্বর ২০১৭

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি – ’৭১ এর বীরাঙ্গনা রাজুবালার মৃত্যুতে নারীপক্ষ থেকে গভীর শোক জ্ঞাপন


সিরাজগঞ্জের ‘বীরাঙ্গনা’, মুক্তিযোদ্ধা রাজুবালা দে এর মৃত্যুতে নারীপক্ষ’র প্রত্যেক সদস্য ও কর্মীর পক্ষ থেকে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের বুচি ও বটেশ্বর এর কন্যা এবং একই উপজেলার চাঁদপুর বাউল গ্রামের হরিপদ দে’র স্ত্রী রাজুবালা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রাজাকারদের সহায়তায় পাকহানাদার কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হন। এর ফলে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত রাজুবালাকে সেবাযত্ন করে সুস্থ করে তুলেছিলেন তার স্বামী। দুখজনক যে, ১৯৯২ সালে ভারতের বাবরী মসজিদ ধ্বংস করাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে যে সহিংসতা ঘটে তাতে তিনি তাঁর স্বামীকে হারান। চরম নিগ্রহ আর অভাব-অনটনে দীর্ঘ ছেচল্লিশটি বছর জীবন অতিবাহিত করে এই বিজয়ের মাসে গত ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মুক্তিযুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার নারীদের তৎকালীণ সমাজকল্যাণ মন্ত্রী কামরুজ্জামান কর্তৃক “বীরাঙ্গনা” উপাধি দেওয়া হলেও বীরাঙ্গনার সম্মান ও মর্যাদা তাঁরা পাননি। তবে, শেষ সময়ে হলেও রাজুবালা ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে সরকার কর্তৃক ভাতা পেতে শুরু করেছিলেন এবং মৃত্যুর পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। শেষকৃত্যানুষ্ঠানে নারীপক্ষ থেকে ফুল দিয়ে রাজুবালার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, নারীপক্ষ ২০১১ সাল থেকে “৭১ এর যে নারীদের ভুলেছি” কর্মসূচির আওতায় বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ করে রাজুবালাসহ বেশ কয়েকজন বীরাঙ্গনাকে মাসিক ভাতা প্রদান করে আসছে, যা কিছুটা হলেও তাঁদের আর্থিক কষ্ট লাঘবের জন্য সহায়ক হয়েছে।

বার্তা প্রেরক,

রেহানা সামদানী
সভানেত্রী, নারীপক্ষ।

Pin It on Pinterest

Share This