Select Page
২০২৩-০৩-১২
আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৩ উপলক্ষে “সন্তানের উপর মায়ের অভিভাবকত্বের অধিকার” প্রতিপাদ্য নিয়ে পদযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে ২৬ ফাল্গুন ১৪২৯/১১ মার্চ ২০২৩ শনিবার সকাল ৮:৩০টায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস কমিটির আয়োজনে রমনা পার্কের অরুণোদয় গেইট থেকে পদযাত্রা করা হয়। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল “সন্তানের উপর মায়ের অভিভাবকত্বের অধিকার”। পদযাত্রাটি ব্যানার, বিভিন্ন শ্লোগান সম্মলিত ফেষ্টুন (জন্ম দিলাম স্তন্য দিলাম তবুও সোনা আমার নয় এ কেমন আইন দেশের এ আইনতো মানার নয়, সন্তানের অভিভাবকত্বে সমান হবো অধিকারে, এই দাবি সফল হোক সন্তানের অভিভাবক মা হোক, ইত্যাদি) ও শ্লোগানসহ মৎস ভবন, ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ করে। পদযাত্রা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হয়। অনুষ্ঠান শুরু করেন তামান্না খান আন্দোলন সম্পাদক, নারীপক্ষ, ঘোষণাপত্র পাঠ এবং গান পরিবেশন করেন ওয়ার্দা আশরাফ, সদস্য নারীপক্ষ। কবিতা আবৃত্তি করেন ইকবাল আহম্মেদ। নাচ- ‘তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর’ পরিবেশন করেন লাইট হাউজ। এছাড়াও বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে আওয়াজ তুলে লাঠি খেলা হয়। অনুষ্ঠানে আগত সকল বয়সী নারী পুরুষ অংশ নেন। পদযাত্রায় কমিটির অন্তর্ভুক্ত ৫২টি সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার, বয়স, বিভিন্ন লিঙ্গ বৈচিত্রময় জনগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও উন্নয়ন সংগঠনের প্রায় ৪৫০ জন অংশগ্রহণ করেন।

যদিও ১৯৯৯ সালের সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ২০০০ সাল থেকে সন্তানের পরিচিতির ক্ষেত্রে বাবার নামের পাশাপাশি মায়ের নাম লেখার নিয়ম করা হয়, এই নিয়ম কেবল মাত্র কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এই নিয়ম সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হোক এটা যেমন আমরা চাই, সেইসঙ্গে আমরা চাই সন্তানের স্বাভাবিক অভিভাবক হিসেবে মাকে দায়িত্ব এবং স্বীকৃতি দেয়া হোক।

বর্তমানে প্রচলিত অভিভাবকত্ব আইনটি আমাদের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। সংবিধানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, দেশের নারী-পুরুষ, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে। নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূরীকরণ সনদ (সিডও)- এর ১৬(চ) ধারায় সন্তানের অভিভাবকত্বের ক্ষেত্রে পিতা, মাতা উভয়ের সমান অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশ সরকার অনুসমর্থন করেছে।

বাংলাদেশে যে অভিভাবকত্ব আইন বলবৎ রয়েছে তা প্রণীত হয়েছে ১৮৯০ সালে বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসন আমলে। কালের যাত্রায় আমরা এগিয়ে এসেছি ১৩৩টি বছর, বাস্তব পরিস্থিতি এবং নারীর জীবন-জীবিকায় এসেছে অনেক পরিবর্তন। সুতরাং শতাধিক বছরের পুরানো চিন্তা-চেতনাপ্রসূত এই অভিভাবকত্ব আইনের পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।

অনুষ্ঠানে যেসকল দাবি করা হয়:
* কেবল শিক্ষাক্ষেত্রে নয়, সকল ক্ষেত্রেই সন্তানের উপর মায়ের অভিভাবকত্বের অধিকার
* অভিভাবকত্ব আইনে মা-বাবা দু’জনের সমান অধিকার, অর্থাৎ বাবার মতো মা-ও তার সন্তানের স্বাভাবিক অভিভাবক হবেন
* অভিভাবকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে ভরণ-পোষণ দেয়ার সামর্থ্য প্রধান বিবেচ্য হবে না। মা অথবা বাবার মধ্যে যিনি সক্ষম তিনিই সন্তানের ভরণ-পোষণ দেবেন, উভয়ে সক্ষম হলে উভয়েই দেবেন, তাতে অভিভাবক হওয়ার যোগ্যতা নির্ভর করবে না।

 

Pin It on Pinterest

Share This