Select Page
২০২৬-০৮-০৫
সান্ধ্য আইন বাতিল ও নারী শিক্ষার্থীদের নায্যঅধিকারের দাবিতে নারীপক্ষ’র সংহতি

নিরাপত্তার নামে নারীর স্বাধীন চলাচল, শিক্ষা ও জনপরিসরে অংশগ্রহণ সীমিত করা সমাজব্যবস্থার একটি বহুল ব্যবহৃত কৌশল। সহিংসতা প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে নারীদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে তাদের স্বাধীন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার এই প্রবণতারই একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিফলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোতে প্রচলিত বৈষম্যমূলক ‘সান্ধ্য আইন’।

এই প্রেক্ষাপটে, ‘বৈষম্যহীন নারী হল চাই’ এবং ‘অবরোধবাসিনী’ ব্যানারে আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি নারীপক্ষ গভীর সংহতি জানাচ্ছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫৭ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধার বাইরে রয়েছেন এবং নিয়মিত ফি পরিশোধ করা সত্ত্বেও অনাবাসিক ছাত্রীরা নিজ হলেই প্রবেশাধিকার পান না। নিরাপত্তার অজুহাতে রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত হলের গেট বন্ধ রাখার ফলে শিক্ষার্থীরা হয়রানি, অপমানজনক জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রশাসনিক হেনস্তার শিকার হচ্ছেন বলেও তাঁরা অভিযোগ করেছেন।

দূরপাল্লার ভ্রমণ শেষে গভীর রাতে ক্যাম্পাসে ফেরা, জরুরি চিকিৎসা, সাংগঠনিক কাজ কিংবা টিউশন পড়িয়ে দেরিতে হলে প্রবেশের মতো বাস্তব প্রয়োজন উপেক্ষা করে কেবল নারী শিক্ষার্থীদের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা বৈষম্যমূলক, অযৌক্তিক এবং নারীর স্বাধীনতা ও মর্যাদার পরিপন্থী।

নারীপক্ষ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিম্নোক্ত দাবিগুলোকে ন্যায্য, সাংবিধানিক ও মানবাধিকারসম্মত বলে মনে করেঃ

  • হলগুলোতে প্রচলিত বৈষম্যমূলক ‘সান্ধ্য আইন’ অবিলম্বে বাতিল করে ২৪ ঘণ্টা অবাধ চলাচল ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে সকল ছাত্রীকে যেকোনো ছাত্রী হলে প্রবেশ এবং যৌক্তিক ও স্বচ্ছ নীতিমালার ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী রাতযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে
  • আবাসিক শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁদের নারী আত্মীয়দের হলে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

এবং নারীপক্ষ দাবি জানাচ্ছে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোর জন্য উপরে উল্লিখিত দাবিগুলো প্রযোজ্য হবে।

নারীপক্ষ বিশ্বাস করে, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথ তাঁর স্বাধীনতা সীমিত করা নয়; বরং বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও জবাবদিহিমূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করছি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি তাদের ন্যায্য দাবিগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছি।

বিবৃতিটি আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকায়  প্রকাশের জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। বরাবরের ন্যায় এবারও আপনার সহযোগিতা একান্তভাবে প্রত্যাশা করছি।

বার্তা প্রেরক,

গীতা দাস
আন্দোলন সম্পাদক, নারীপক্ষ

Pin It on Pinterest

Share This