প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সঙ্গীত ও শরীরচর্চা শিক্ষক পদ বাতিল করে গত ২ নভেম্বর ২০২৫ নতুন প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে। নারীপক্ষ সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জনাচ্ছে।
গত ২৮ আগস্ট ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’- এর প্রজ্ঞাপনে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়। এই প্রেক্ষিতে সংগীত শিক্ষকের বদলে ধর্ম শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে কিছু রাজনৈতিক দল সভা-সেমিনার ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে এবং তাদের দাবি মানা না হলে রাজপথে আন্দোলনেরও হুমকি দেয়। তাদের বক্তব্য ছিলো, এটা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ‘ইসলামবিদ্বেষী’ করে গড়ে তোলার ষড়যন্ত্র।
যদিও নারীপক্ষসহ অনেকে তাদের উক্ত অপপ্রচার ও দাবির প্রতিবাদ জানিয়েছিলো। নারীপক্ষ সরকারের প্রথম প্রজ্ঞাপনকে সাধুবাদ জানিয়ে কোনোরকম অপ-প্রচার বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছিলো কিন্তু সরকার সেসবের তোয়াক্কা না করে এই নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। নারীপক্ষ ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ ও হতাশ।
সঙ্গীত ও শরীর চর্চা ধর্মের সাথে কোনোভাবেই সাংঘর্ষিক নয়। সঙ্গীত মানুষকে সংস্কৃতিমনা ও সংবেদনশীল হতে শেখায়। মানুষকে সকল সঙ্কীর্ণতা-নিষ্ঠুরতা কাটিয়ে মনোজগতের কোমলতা, নমনীয়তার সম্প্রসারণ ঘটিয়ে মানবিক ও সুস্থ-স্বাভাবিক নাগরিক হয়ে উঠতে সহায়তা করে। বিশে^র অনেক দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সঙ্গীত শিখানো হয়, যেমন: তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার। সেসব দেশের শিশুরা ধর্মবিদ্বেষী বা অপসংস্কৃতিবান নয়।
একজন মানুষের সামগ্রিক বিকাশের জন্য তার শিশু বয়স থেকে শরীরচর্চা অপরিহার্য। নিয়মিত শরীরচর্চা শিশুর শারীরিক, মানসিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাস্থ্যকে উন্নত করে।
সরকারকে দেশ এবং জনগণের উন্নয়ন ও কল্যাণের জন্য উদ্যোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে; বিশেষভাবে আগামী প্রজন্মকে তৈরি করার লক্ষ্যে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে, কারণ আজকের শিশুরাই দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।
নারীপক্ষ সরকারকে অনতিবিলম্বে এই নতুন প্রজ্ঞাপন বাতিল করে পূর্বের প্রজ্ঞাপনটি বহাল করার দাবি জানাচ্ছে, অন্যথায় দেশ ও জাতির এই অপরিসীম ক্ষতির জন্য সরকারই দায়ী থাকবে।
বিবৃতিটি আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকায় প্রকাশের জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। বরাবরের ন্যায় এবারও আপনার সহযোগিতা একান্তভাবে প্রত্যাশা করছি।
সাফিয়া আজীম
আন্দোলন সম্পাদক, নারীপক্ষ।