অতি সম্প্রতি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত কাছারি বড়িতে হামলা ও ভাঙচুর এবং ময়মনসিংহের ত্রিশালে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের “অঞ্জলি লহো মোর” ভাস্কর্যটি ভিসির সহযোগিতায় পরিকল্পিতভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছে।
কয়েকদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে ‘মধুসূদন দে স্মৃতি ভাস্কর্য’র একটি অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। ইতোপূর্বে ঢাকায় একুশের বইমেলায় দোকান ভাঙচুর, সাতক্ষীরায় বইমেলায় উদীচীর স্টলে হামলা ও ব্যানার পুড়িয়ে ফেলা, টাঙ্গাইলে ফুলের দোকান ভাঙচুর ও লালন উৎসব বন্ধ করা, ঢাকা মহানগর নাট্যোৎসব স্থগিত করা, ঢাকার উত্তরা ও চট্টগ্রামে বসন্ত উৎসবে হামলা করে বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও কুম্ভমেলাসহ আরো অনেক মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। একের পর এক ভাঙা হয়েছে মাজার, বন্ধ করা হয়েছে গানবাজনা। এই ধরনের কার্যকলাপ সমাজের সৃজনশীলতা ও দেশের ঐতিহ্যকে ক্ষুন্ন করে।
বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও আবহমান সংস্কৃতি ধ্বংসকারী এইসকল কর্মকান্ড প্রতিরোধে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। নারীপক্ষ’র এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
’২৪- এর জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট হাসিনা সরকার উৎখাতের পর মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর, ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু যাদুঘরসহ দেশের অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা ও ’৭১- এর মুক্তিযুদ্ধের নিদর্শনগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেওয়া হয় যে, এ সবই ছিলো হাসিনা সরকারের আওয়ামী দুঃশাসনে অতিষ্ঠ ক্ষুব্ধ মানুষের বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া বা রাজনৈতিক হিংসা-প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ, তাহলে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় এক বছর হতে চললেও এখনও পর্যন্ত চলতে থাকা এই ধরনের হামলা, ভাঙচুরের ঘটনা প্রতিরোধে সরকার কেন কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না?
গত জুলাই-আগস্টে শিক্ষার্থী-জনতার আন্দোলনে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার লক্ষ্য অর্জন ব্যর্থ হতে বসেছে। এহেন পরিস্থিতিতে আমরা ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ, হতাশ ও উদ্বিগ্ন। সরকারের কাছে নারীপক্ষ’র দাবি, আর যাতে এই ধরনের কোন হামলা, ভাঙচুরের ঘটনা না ঘটে এবং একটিও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড বা ঐতির্হবাহী মেলা বন্ধ না হয় তারজন্য এখনই কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। সকলপ্রকার রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তি বা যেকোনো ধরনের অপশক্তির চাপের ঊর্ধে থেকে একটি বৈষম্যমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করুন।
বার্তা প্রেরক
সাফিয়া আজীম
আন্দোলন সম্পাদক, নারীপক্ষ।