Select Page
২০২৫-০৩-১৭
বিবৃতি: মৃত্যুদন্দ এবং দ্রুত বিচার আইন নারী-শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও যৌন আক্রমণ বন্ধে কোনো সমাধান আনবে না, অপরাধের সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে

পত্রপত্রিকা ও বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে আমরা জেনেছি যে, নারী ও শিশুর উপর ধর্ষণ এবং যৌন আক্রমণের ভয়াবহ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর অধিকতর সংশোধনকল্পে  বিচার এবং মৃত্যুন্দের বিধান রেখে একটি অধ্যাদেশ জারি করতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগ আমাদেরকে উদ্বিগড়ব ও শঙ্কিত করছে। সমস্যার মূলে না গিয়ে কেবল জনতুষ্টি আদায়ের জন্য তড়িঘড়ি আইন সংশোধন অবিবেচনা প্রসূত, যা নারী ও শিশু নির্যাতন এবং তাদের উপর ধর্ষণ ও যৌন আক্রমণ বন্ধে কোনো সমাধান আনবে না বরং অপরাধের সুবিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নানারকম প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে।
আইন-আদালতের মাধ্যমে মৃত্যুদন্ড প্রদান রাষ্ট্র দ্বারা হত্যার শামিল এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। মৃত্যুদন্ড দ্বারা কোনো অপরাধ দমন হয়েছে এমন কোন প্রমাণ বিশে^র কোথাও আজও মেলেনি।
বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা যেমন ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে তেমন তড়িৎ বিচারের ফলে বিচারের ফলাফল ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বাংলাদেশে নারীর উপর সহিংসতামূলক অপরাধ সংμান্ত আইন ও বিধিবিধান দÐবিধির আওতায় আছে, তারপরেও বিভিনড়ব সময়ে নারীনির্যাতন বিষয়ে বিশেষ বিশেষ আইন প্রণীত হয়েছে। এখন আবার এই আইনে কোন্ ধরণের অপর্যাপ্ততার কারণে সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে সে বিষয়ে যথেষ্ট আলোচনা-পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ আবশ্যক।
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার মূল কারণ কেবল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে নিহিত নয় বরং নারী-পুরুষের মধ্যে বিরাজমান অসমতা ও ক্ষমতার দ্ব›েদ্বর মধ্যে নিহিত, তাই নারী ও শিশুর উপর সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রতিকার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ, বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণের মাধ্যমেই সম্ভব। নারীর প্রতি মানবিক মর্যাদার দৃষ্টান্ত স্থাপন এবং নারীকে নানা কায়দায় অবদমিত বা সঙ্কুচিত করার ঘটনাগুলো প্রতিরোধ করা রাষ্ট্রের অবশ্য দায়িত্ব ও কর্তব্য। নারীর পোশাকপরিচ্ছদ, চলাফেরা, পেশা, সম্পর্ক ইত্যাদির অজুহাতে ‘মবসন্ত্রাস’ বন্ধ করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। নারী ও শিশুর উপর নির্যাতন, ধর্ষণ ও যৌন আμমণের বিরুদ্ধে সংগঠিত আন্দোলনগুলোর উপর রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, হামলা-মামলা নারী-আন্দোলনকে অবদমিত করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র, এটা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। যেকোনো অন্যায়, অপরাধ ও অবিচারের বিরুদ্ধে সংগঠিত হওয়া বা সংঘবদ্ধ আন্দোলন তৈরি করা নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার।
উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে মাননীয় আইন উপদেষ্টা মহোদয়কে উক্ত বিষয়ে নারীপক্ষ’র অবস্থান ও বক্তব্য স্পষ্ট করে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, মাননীয় উপদেষ্টা মহোদয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্যরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নেবেন।

বার্তা প্রেরক

সাফিয়া আজীম
আন্দোলন সম্পাদক, নারীপক্ষ।

Pin It on Pinterest

Share This