পত্রপত্রিকা ও বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে আমরা জেনেছি যে, নারী ও শিশুর উপর ধর্ষণ এবং যৌন আক্রমণের ভয়াবহ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর অধিকতর সংশোধনকল্পে বিচার এবং মৃত্যুন্দের বিধান রেখে একটি অধ্যাদেশ জারি করতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগ আমাদেরকে উদ্বিগড়ব ও শঙ্কিত করছে। সমস্যার মূলে না গিয়ে কেবল জনতুষ্টি আদায়ের জন্য তড়িঘড়ি আইন সংশোধন অবিবেচনা প্রসূত, যা নারী ও শিশু নির্যাতন এবং তাদের উপর ধর্ষণ ও যৌন আক্রমণ বন্ধে কোনো সমাধান আনবে না বরং অপরাধের সুবিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নানারকম প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে।
আইন-আদালতের মাধ্যমে মৃত্যুদন্ড প্রদান রাষ্ট্র দ্বারা হত্যার শামিল এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। মৃত্যুদন্ড দ্বারা কোনো অপরাধ দমন হয়েছে এমন কোন প্রমাণ বিশে^র কোথাও আজও মেলেনি।
বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা যেমন ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে তেমন তড়িৎ বিচারের ফলে বিচারের ফলাফল ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বাংলাদেশে নারীর উপর সহিংসতামূলক অপরাধ সংμান্ত আইন ও বিধিবিধান দÐবিধির আওতায় আছে, তারপরেও বিভিনড়ব সময়ে নারীনির্যাতন বিষয়ে বিশেষ বিশেষ আইন প্রণীত হয়েছে। এখন আবার এই আইনে কোন্ ধরণের অপর্যাপ্ততার কারণে সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে সে বিষয়ে যথেষ্ট আলোচনা-পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ আবশ্যক।
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার মূল কারণ কেবল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে নিহিত নয় বরং নারী-পুরুষের মধ্যে বিরাজমান অসমতা ও ক্ষমতার দ্ব›েদ্বর মধ্যে নিহিত, তাই নারী ও শিশুর উপর সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রতিকার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ, বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণের মাধ্যমেই সম্ভব। নারীর প্রতি মানবিক মর্যাদার দৃষ্টান্ত স্থাপন এবং নারীকে নানা কায়দায় অবদমিত বা সঙ্কুচিত করার ঘটনাগুলো প্রতিরোধ করা রাষ্ট্রের অবশ্য দায়িত্ব ও কর্তব্য। নারীর পোশাকপরিচ্ছদ, চলাফেরা, পেশা, সম্পর্ক ইত্যাদির অজুহাতে ‘মবসন্ত্রাস’ বন্ধ করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। নারী ও শিশুর উপর নির্যাতন, ধর্ষণ ও যৌন আμমণের বিরুদ্ধে সংগঠিত আন্দোলনগুলোর উপর রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, হামলা-মামলা নারী-আন্দোলনকে অবদমিত করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র, এটা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। যেকোনো অন্যায়, অপরাধ ও অবিচারের বিরুদ্ধে সংগঠিত হওয়া বা সংঘবদ্ধ আন্দোলন তৈরি করা নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার।
উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে মাননীয় আইন উপদেষ্টা মহোদয়কে উক্ত বিষয়ে নারীপক্ষ’র অবস্থান ও বক্তব্য স্পষ্ট করে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, মাননীয় উপদেষ্টা মহোদয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্যরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নেবেন।
বার্তা প্রেরক
সাফিয়া আজীম
আন্দোলন সম্পাদক, নারীপক্ষ।