Select Page
২০২৬-০৮-২১
নারীর নিরাপদ, স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ চলাচল নিশ্চিত করতে চাই কাঠামোগত পরিবর্তন

সম্প্রতি চালু হওয়া পিংক বাস উদ্যোগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। নারীপক্ষ মনে করে, নারীর নিরাপদ চলাচলের প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই উদ্যোগকে সেই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।

যৌন হেনস্তা ও সহিংসতার কারণে গণপরিবহনে নারীর নিরাপদ চলাচল এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। এ বাস্তবতায় পিংক বাস তাৎক্ষণিকভাবে কিছুটা নিরাপত্তা ও স্বস্তি দিতে পারে। তাই নারীপক্ষ এই উদ্যোগকে বিচ্ছিন্ন সমাধান হিসেবে নয়, বরং সহায়ক ও অন্তর্বর্তী পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানায়। নারীর নিরাপত্তা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে বিশেষ বা অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণকে বৈষম্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং বিদ্যমান বৈষম্য দূরীকরণে এ ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে। বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৮(৪)-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নারীদের অনুকূলে রাষ্ট্র বিশেষ বিধান প্রণয়ন করতে পারে। একইভাবে সিডও সনদের অনুচ্ছেদ ৪(১) অনুযায়ী, নারী ও পুরুষের বাস্তব সমতা অর্জনকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে গৃহীত ‘অস্থায়ী বিশেষ ব্যবস্থা’ বৈষম্য হিসেবে গণ্য হয় না।

নারীপক্ষ বিশ্বাস করে, দীর্ঘমেয়াদে এমন একটি সমাজ ও জনপরিসর গড়ে তুলতে হবে, যেখানে নারী তার বয়স, পোশাক, পেশা, শ্রেণি বা চলাচলের সময় নির্বিশেষে সকল গণপরিবহন ও জনপরিসরে স্বাধীনভাবে, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে চলাচল করতে পারবেন। পিংক বাসের মতো উদ্যোগ যেন সকল নারীর জন্য গণপরিবহন ও জনপরিসর নিরাপদ করার রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে আড়াল না করে। নারীর নিরাপত্তার সমাধান জনপরিসর থেকে তাকে আলাদা করা নয়; বরং জনপরিসরকেই সবার জন্য নিরাপদ করে তোলা। একই সঙ্গে কাঠামোগত পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত নারীর বর্তমান নিরাপত্তার প্রয়োজনকেও উপেক্ষা করা যায় না।

এছাড়া উদ্যোগটির প্রতীকী পরিচয়ে নারী অধিকার ও আন্দোলনের সঙ্গে বহুলভাবে যুক্ত বেগুনি রঙের ব্যবহার হলে তা নারী অধিকার, সমতা ও ক্ষমতায়নের বার্তার সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো। তবে প্রতীকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—নারীর নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ।

কাঠামোগত পরিবর্তন নিশ্চিত করতে নারীপক্ষ’র দাবি:

  • গণপরিবহন ও জনপরিসরে যৌন হেনস্তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা;
  • পরিবহনকর্মীদের প্রশিক্ষণ ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা;
  • সহজলভ্য, নিরাপদ ও কার্যকর অভিযোগ গ্রহণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা;
  • সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত ও কার্যকর আইনগত পদক্ষেপ নিশ্চিত করা;
  • নগর ও পরিবহন পরিকল্পনায় নারীর নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া;
  • নারীসহ সকলের জন্য সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ গণপরিবহন ও জনপরিসর নিশ্চিত করা।

বিবৃতিটি আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকায় প্রকাশের জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। বরাবরের ন্যায় এবারও আপনার সহযোগিতা একান্তভাবে প্রত্যাশা করছি।

বার্তা প্রেরক,

গীতা দাস
আন্দোলন সম্পাদক, নারীপক্ষ

Pin It on Pinterest

Share This