২০২৪- এর জুলাই-আগস্টে শিক্ষার্থী-জনতার অপ্রতিরোধ্য আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী একটি নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা ছিলো প্রবল। স্বৈরাচারী সরকার দ্বারা জুলাই হত্যাকাÐের সুবিচার নিশ্চিতকরণ, ঘুণে ধরা রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নতুন যাত্রার জন্য উদ্গ্রীব হয়েছিলো এই দেশের মানুষ অথচ বছর না ঘুরতেই দেখা গেলো ভিন্ন চিত্র। বাংলাদেশে প্রতিহিংসার রাজনীতির ধারা অব্যাহত। সাধারণ মানুষের জান-মাল ও দৈনন্দিন জীবন চরম নিরাপত্তাহীনতায়। দঙ্গল সন্ত্রাস এবং প্রকাশ্য ও গুপ্ত হত্যা মানুষের জীবনের উপর সবচেয়ে বড়ো হুমকি। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে স্বল্প আয়ের মানুষ দিশেহারা; অথচ, এসব বন্ধে সরকারের কার্যকর কোনও উদ্যোগই নেই! ন্যায়বিচার তো অনেক দূর। যে কোটা নিয়ে জুলাই আন্দোলনের সূত্রপাত সেই কোটা ফিরে এসেছে নতুন রূপে, নতুন কায়দায়। “বৈষম্য বিরোধী” আন্দোলন হলেও প্রশাসন, রাষ্ট্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ, কোনও পর্যায় থেকেই বৈষম্য দূরীকরণের প্রক্রিয়া বা পদক্ষেপই নেই।
আমরা চাই শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত এবং ন্যায় ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ রাষ্ট্র, যেখানে দেশের প্রতিটি নাগরিক পাবে সমান মর্যাদা, সুবিচার ও নিরাপদ জীবনের অধিকার। তাই, আমাদের এবারের প্রতিপাদ্য “চাই সাম্য, মর্যাদা, সুবিচার: বাংলাদেশ তোমার আমার।”
উক্ত কর্মসূচির সংবাদ আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকা প্রকাশের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। পূর্বের ন্যায় এবারও আপনার সহযোগিতা কামনা করছি।
“চাই সাম্য, মর্যাদা, সুবিচার: বাংলাদেশ তোমার আমার”
“আলোর স্মরণে কাটুক আঁধার” ২০২৫
আনন্দ, বেদনা ও বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। ’৫২ এ ভাষা আন্দোলন, ’৬৯ এ গণঅভ্যুত্থান, ’৭০ এ জাতীয় নির্বাচন এবং ’৭১- এ ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। ১৯৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছে। এই অর্জনের নেপথ্যে রয়েছে ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, গোষ্ঠী, স¤প্রদায়- নির্বিশেষে সকলের সম-অধিকার আদায়ের দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস।
মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যাশা ছিলো শোষণ-বৈষম্যমুক্ত একটি স্বাধীন সার্বভৌম মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, যে রাষ্ট্রে প্রতিটি নাগরিকের জীবনের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে, অর্থাৎ রাষ্ট্র তার নাগরিকদের জীবন রক্ষা করবে, মৌলিক অধিকারসহ মানবিক মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকা নিশ্চিত করবে। নিরাপত্তা বিধান করবে। শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখবে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতি বিকাশের নিশ্চয়তা দেবে। সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পারিপার্র্শ্বিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখবে। আইনের শাসন বজায় রাখবে। রাষ্ট্র কোনও ধর্মের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করবে না।
২০২৪- এর জুলাই-আগস্টে শিক্ষার্থী-জনতার অপ্রতিরোধ্য আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী একটি নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা ছিলো প্রবল। স্বৈরাচারী সরকার দ্বারা জুলাই হত্যাকাÐের সুবিচার নিশ্চিতকরণ, ঘুণে ধরা রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নতুন যাত্রার জন্য উদ্গ্রীব হয়েছিলো এই দেশের মানুষ অথচ বছর না ঘুরতেই দেখা গেলো ভিন্ন চিত্র। বাংলাদেশে প্রতিহিংসার রাজনীতির ধারা অব্যাহত। সাধারণ মানুষের জান-মাল ও দৈনন্দিন জীবন চরম নিরাপত্তাহীনতায়। দঙ্গল সন্ত্রাস এবং প্রকাশ্য ও গুপ্ত হত্যা মানুষের জীবনের উপর সবচেয়ে বড়ো হুমকি। ‘তৌহিদী জনতা’ নামে কিছু উশৃঙ্খল মানুষ নানাবিধ ধর্মীয় উস্কানি দিচ্ছে। তারা যখন-তখন, যেখানে-সেখানে মানুষের- বিশেষত নারী, মুক্তিযোদ্ধা, শিল্পী, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মীর উপর হামলা, মামলা ও তাদের জান-মালের হানি করছে। তাদের মুক্ত-স্বাধীন চলাফেরা ও মত প্রকাশের ওপর সহিংস আক্রমণ চালাচ্ছে, সাইবার সহিংসতা করছে। একের পর এক মাজার ভাঙছে। মেলা, প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলা চালাচ্ছে, বন্ধ করে দিচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ও বিভিন্ন নিদর্শন এবং শিল্পকর্ম ধ্বংস করছে। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে স্বল্প আয়ের মানুষ দিশেহারা; অথচ, এসব বন্ধে সরকারের কার্যকর কোনও উদ্যোগই নেই! ন্যায়বিচার তো অনেক দূর। যে কোটা নিয়ে জুলাই আন্দোলনের সূত্রপাত সেই কোটা ফিরে এসেছে নতুন রূপে, নতুন কায়দায়। “বৈষম্য বিরোধী” আন্দোলন হলেও প্রশাসন, রাষ্ট্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ, কোনও পর্যায় থেকেই বৈষম্য দূরীকরণের প্রক্রিয়া বা পদক্ষেপই নেই।
আমরা চাই শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত এবং ন্যায় ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ রাষ্ট্র, যেখানে দেশের প্রতিটি নাগরিক পাবে সমান মর্যাদা, সুবিচার ও নিরাপদ জীবনের অধিকার। তাই, আমাদের এবারের প্রতিপাদ্য “চাই সাম্য, মর্যাদা, সুবিচার: বাংলাদেশ তোমার আমার।”
’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের স্মরণে নারীপক্ষ ১৯৮৮ সাল থেকে প্রতিবছর বিজয় দিবসের প্রাক্কালে “আলোর স্মরণে কাটুক আঁধার” অনুষ্ঠান আয়োজন করে আসছে। প্রতি বছরের মতো এবারও নারীপক্ষ আপনাকে এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের স্মরণে মোমবাতি জ্বালানোর আহবান জানাচ্ছে। এই আলো ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল অন্ধকার দূর করুক। প্রতিষ্ঠা পাক শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত মানবিক মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ রাষ্ট্র।
দিন-ক্ষণ: ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪৩২/১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, শনিবার বিকাল ৫:২০ থেকে সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিট
স্থান: কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ঢাকা।

