সম্প্রতি চালু হওয়া পিংক বাস উদ্যোগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। নারীপক্ষ মনে করে, নারীর নিরাপদ চলাচলের প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই উদ্যোগকে সেই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।
যৌন হেনস্তা ও সহিংসতার কারণে গণপরিবহনে নারীর নিরাপদ চলাচল এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। এ বাস্তবতায় পিংক বাস তাৎক্ষণিকভাবে কিছুটা নিরাপত্তা ও স্বস্তি দিতে পারে। তাই নারীপক্ষ এই উদ্যোগকে বিচ্ছিন্ন সমাধান হিসেবে নয়, বরং সহায়ক ও অন্তর্বর্তী পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানায়। নারীর নিরাপত্তা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে বিশেষ বা অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণকে বৈষম্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং বিদ্যমান বৈষম্য দূরীকরণে এ ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে। বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৮(৪)-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নারীদের অনুকূলে রাষ্ট্র বিশেষ বিধান প্রণয়ন করতে পারে। একইভাবে সিডও সনদের অনুচ্ছেদ ৪(১) অনুযায়ী, নারী ও পুরুষের বাস্তব সমতা অর্জনকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে গৃহীত ‘অস্থায়ী বিশেষ ব্যবস্থা’ বৈষম্য হিসেবে গণ্য হয় না।
নারীপক্ষ বিশ্বাস করে, দীর্ঘমেয়াদে এমন একটি সমাজ ও জনপরিসর গড়ে তুলতে হবে, যেখানে নারী তার বয়স, পোশাক, পেশা, শ্রেণি বা চলাচলের সময় নির্বিশেষে সকল গণপরিবহন ও জনপরিসরে স্বাধীনভাবে, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে চলাচল করতে পারবেন। পিংক বাসের মতো উদ্যোগ যেন সকল নারীর জন্য গণপরিবহন ও জনপরিসর নিরাপদ করার রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে আড়াল না করে। নারীর নিরাপত্তার সমাধান জনপরিসর থেকে তাকে আলাদা করা নয়; বরং জনপরিসরকেই সবার জন্য নিরাপদ করে তোলা। একই সঙ্গে কাঠামোগত পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত নারীর বর্তমান নিরাপত্তার প্রয়োজনকেও উপেক্ষা করা যায় না।
এছাড়া উদ্যোগটির প্রতীকী পরিচয়ে নারী অধিকার ও আন্দোলনের সঙ্গে বহুলভাবে যুক্ত বেগুনি রঙের ব্যবহার হলে তা নারী অধিকার, সমতা ও ক্ষমতায়নের বার্তার সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো। তবে প্রতীকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—নারীর নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ।
কাঠামোগত পরিবর্তন নিশ্চিত করতে নারীপক্ষ’র দাবি:
- গণপরিবহন ও জনপরিসরে যৌন হেনস্তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা;
- পরিবহনকর্মীদের প্রশিক্ষণ ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা;
- সহজলভ্য, নিরাপদ ও কার্যকর অভিযোগ গ্রহণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা;
- সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত ও কার্যকর আইনগত পদক্ষেপ নিশ্চিত করা;
- নগর ও পরিবহন পরিকল্পনায় নারীর নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া;
- নারীসহ সকলের জন্য সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ গণপরিবহন ও জনপরিসর নিশ্চিত করা।
বিবৃতিটি আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকায় প্রকাশের জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। বরাবরের ন্যায় এবারও আপনার সহযোগিতা একান্তভাবে প্রত্যাশা করছি।
বার্তা প্রেরক,
গীতা দাস
আন্দোলন সম্পাদক, নারীপক্ষ