তথাকথিত ধর্ম অবমাননা, স্বাধীন মত প্রকাশ ও সংস্কৃতি চর্চার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা, দঙ্গল সন্ত্রাস দেশকে অরাজকতার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে দিচ্ছে। সরকার কি দিশেহারা?
গত ১১ এপ্রিল ২০২৬ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ফিলিপনগর ইউনিয়নের ফিলিপনগর গ্রামে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর ‘পীরকে’ পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা এবং তাঁর দরবারে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতেই এই বে-আইনি ও বীভৎস ঘটনাটি ঘটেছে।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দীনের বক্তব্য, ‘বিক্ষুব্ধ জনতা’র তুলনায় পুলিশ কম ছিল বিধায় ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি, জনতা শামীম রেজাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। নারীপক্ষ পুলিশ প্রশাসনের এহেন বক্তব্য এবং আচরণে ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ, হতাশ ও উদ্বিগ্ন।
দেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিধান সরকারের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব কিন্তু অতীতের অনেক ঘটনার মতো এবারও পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন তাদের দায়িত্ব পালনে কেবল ব্যর্থই নয়, ‘বিক্ষুব্ধ জনতা’র অজুহাত দেখিয়ে নিজ কর্তব্যে অবহেলার নির্লজ্জ উদাহরণ তৈরি করেছে। আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য হলো, প্রতিটি নাগরিকের বিশ্বাস, আদর্শ, মতামত, স্বাধীন চলাফেরা ও নিজস্ব সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের পক্ষে সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য। দীর্ঘদিন ধরে চলমান দঙ্গলসন্ত্রাস বন্ধে সরকারের পক্ষ থেকে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে আমরা তা জানতে চাই। নারীপক্ষ’র দাবি, শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর পীরকে হত্যা এবং তাঁর দরবারে হামলার সাথে যুক্ত প্রত্যেককে অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারের সম্মুখীন করুন। ভিন্ন মতাদর্শ ধারণ ও প্রকাশের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী আচরণ ও হত্যাকা- বন্ধে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নিন।
গীতা দাস
আন্দোলন সম্পাদক, নারীপক্ষ।