Select Page
২০২৬-০৪-০১
মডেল ও অভিনেত্রী সিমরিন লুবাবার বিয়ে একটি ‘বাল্য বিয়ে’, যা দণ্ডনীয় অপরাধ
বাংলাদেশের ছোট পর্দার মডেল ও অভিনেত্রী সিমরিন লুবাবা মাত্র ১৫ বছর বয়সেই বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন বলে তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন। দেশের মূলধারার পত্র-পত্রিকায়ও এই বিয়ের খবর প্রচার করা হয়েছে। লুবাবার ভক্ত ও শুভাকাক্সক্ষীরা তার এই কাজকে ‘সাহসী পদক্ষেপ’ ও ‘অনুপ্রেরণাদায়ক’ বলে অভিহিত করে বিপুল প্রশংসা করেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, আইনবিরুদ্ধ কাজ কি সাহসের বা অনুপ্রেরণাদায়ক? এই বাল্যবিয়েটি কে, কিভাবে কোথায় সম্পন্ন করেছে? আয়োজনকারী কে/কারা? নিবন্ধন হয়েছে কি? কে নিবন্ধন করেছে? আদালতের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি? লুবাবার অভিভাবকদের ভূমিকা কী? স্বাক্ষী কারা ছিলো?

বাংলাদেশের বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন অনুযায়ী, মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছর। এই বয়সের নিচে বিয়ে হলে তা বাল্যবিয়ে এবং আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। বাল্যবিয়ের আয়োজন করলে, অনুমতি দিলে, নিবন্ধন করালে তারা সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদ-, ১ লক্ষ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারে। যুক্তিসংগত কারণে বিশেষ বিধানে পিতামাতা/অভিভাবক এবং আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে মেয়েদের ১৮ বছরের চেয়ে কম বয়সে বিয়ের সুযোগ আইনে রাখা হলেও এর জন্য কঠোর শর্ত মানতে হয়। এক্ষেত্রে তা মানা হয়েছে কি?  

বহুজন বা একাধিক পক্ষের সংশ্লিষ্টতায় একটি বিয়ে সম্পন্ন হয়। সিমরিন লুবাবাসহ এই বিয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অমান্য করেছে, অথচ সরকার, প্রশাসন এবং প্রচারমাধ্যমগুলো এ বিষয়ে নীরব। নারীপক্ষ’র দাবি, এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সরকার এবং বিচারবিভাগ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, অন্যাথায় নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলে দায়বদ্ধ থাকবেন।

বিবৃতিটি আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকায়  প্রকাশের জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। বরাবরের ন্যায় এবারও আপনার সহযোগিতা একান্তভাবে প্রত্যাশা করছি।
গীতা দাস
আন্দোলন সম্পাদক, নারীপক্ষ।

Pin It on Pinterest

Share This