Select Page
২০২৬-০২-২৮
থামছেই না ধর্ষণ ও ধর্ষণজনিত হত্যা, নারীপক্ষ ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ ও হতাশ
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুরে নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মধ্যবর্তী একটি সর্ষেক্ষেত থেকে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর ১৫ দিন আগে স্থানীয় যুবক নূরার নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জন তরুণ ঐ কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেছে। ধর্ষণের বিচারের জন্য কিশোরীর পরিবার উক্ত ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আহাম্মদ আলী দেওয়ানের কাছে যায়। এতে ধর্ষণকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে কিশোরী ও তার পরিবারকে এলাকা ছাড়ার জন্য হুমকি ও চাপ দিতে থাকে। এহেন পরিস্থিতিতে ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাতে মেয়েকে খালার বাড়িতে রাখতে যাওয়ার পথে নূরার নেতৃত্বে ছয় তরুণ বাবার কাছ থেকে কিশোরীটিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরের দিন সকালে উল্লেখিত স্থানে কিশোরীর লাশ পাওয়া গেছে।

গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাজধানীর হাতিরঝিল থেকে অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ধর্ষক দুই যুবক পুলিশকে জানিয়েছে, তারা পাঁচজন মিলে ঐ কিশোরীকে হাত-পা বেঁধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেছে। এতে তার মৃত্যু হলে মরদেহ হাতিরঝিলে ফেলে দেয়।
আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত খবর, পাবনার ঈশ্বরদীতে দাদি-নাতনীর লাশ উদ্ধার। পুলিশের ধারণা, নাতনীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

প্রকাশিত-অপ্রকাশিত এমন অসংখ্য নারীধর্ষণ, ধর্ষণজনিত এবং ধর্ষণপরবর্তী হত্যার বিরামহীন ঘটনা ঘটেই চলেছে। দুঃখজনকভাবে সরকার কখনোই নারীর উপর নৃশংসতা প্রতিরোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এহেন পরিস্থিতিতে নারীপক্ষ ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ ও হতাশ।

নব-নির্বাচিত সরকারে কাছে নারীপক্ষ’র দাবি, অনতিবিলম্বে প্রতিটি ধর্ষণ ও ধর্ষণজনিত এবং ধর্ষণপরবর্তী হত্যা ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিচার নিশ্চিত করুন। নারীর উপর ধর্ষণসহ সকল প্রকার সহিংস ঘটনা প্রতিরোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিন। এই সকল ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তর কর্তৃক গৃহীত হালনাগাদ তথ্য ও পদক্ষেপ জনসমক্ষে প্রকাশের ব্যবস্থা নিন। দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করুন।

বার্তা প্রেরক,

গীতা দাস
আন্দোলন সম্পাদক, নারীপক্ষ।

Pin It on Pinterest

Share This