‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ এর অভিযোগ তুলে এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয় (ইউএপি)- এর বেসিক সায়েন্সেস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক লায়েকা বশীরকে চাকুরিচ্যুত করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে নারীপক্ষ।লায়েকা বশীর বিশ্ববিদ্যালয়ে সামাজিক ইতিহাস পড়ান। এর বিষয়বস্তুতে অনÍর্ভুক্ত আছে ধর্ম, প্রথা ও সমাজ বিবর্তনের ইতিহাস।
লায়েকা বশীর কিছুদিন আগে মুখম-ল ঢাকা গৃহকর্মী কর্তৃক মোহাম্মদপুরের জোড়া খুনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এই দু’টি বিষয়কে ধরেই ধরেই ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ এবং ‘ইসলাম বিদ্বেষ’ এর অভিযোগ তুলে ইউএপি’র কিছু প্রাক্তন শিক্ষার্থী প্রথমে তাকে অনলাইনে হুমকি দেয় এবং নানা কুৎসা রটনা করতে থাকে। এরপর তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সাধারণ শিক্ষার্থী ও এ্যালামনাই’- এর ব্যানারে এই শিক্ষককে বহিষ্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামে। আন্দোলনকারীদের এই অন্যায্য দাবির প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লায়েকা বশীরকে চাকুরিচ্যুত করেছেন।
নারীপক্ষ’র স্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে, একজন শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে পাঠ দানের সময় শিক্ষার্থীদেরকে সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে তথ্য-উপাত্ত দিতে এবং ঘটনাধারা বা ইতিহাস সম্পর্কে বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা করতেই হয়। তাছাড়া, একজন শিক্ষকেরও অবশ্যই ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশের সম্পূর্ণ অধিকার আছে, তাই তিনি ফেসবুকে তার ব্যক্তিগত মতামত দিতেই পারেন। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থী বা অন্য কারও দাবির কারণে অভিযোগের যৌক্তিক যাচাই না করে এবং অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে তাকে চাকুরিচ্যুত করাটা সম্পূর্ণ আইন বহির্ভূত। নারীপক্ষ অনতিবিলম্বে লায়েকা বশীরের চাকুরিচ্যুতির আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে।এর আগেও দেশের বিভিন্ন জায়গায় ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ এর তথাকথিত অভিযোগ তুলে বেশ কয়েকজন শিক্ষকসহ বহু মানুষকে ‘দঙ্গল সন্ত্রাস’ এর মাধ্যমে নানারকম হেনস্তা, অত্যাচার-নির্যাতন, এমনকি আগুনে পুড়িয়ে হত্যা পর্যন্ত করা হয়েছে। ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ কথাটি এখন হরহামেশা রাজনৈতিক, সামাজিক এবং জাতি-গোষ্ঠী বা ধর্মীয় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তার পক্ষে চরম হুমকি এবং মানবাধিকারের চরম বিপর্যয়। অথচ, এই ‘দঙ্গল সন্ত্রাস’ বন্ধে সরকার কর্তৃক কোনও পদক্ষেপই নেই!
বার্তা প্রেরক,সাফিয়া আজীম
আন্দোলন সম্পাদক, নারীপক্ষ।
আন্দোলন সম্পাদক, নারীপক্ষ।