১৫ নভেম্বর ২০২৫, ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত ‘আন্তর্জাতিক খতমে নবুয়াত সম্মেলন’ থেকে আহমদিয়া জনগোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবি তোলা হয়েছে। ১৯৯০ সাল থেকে তারা বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে সভা-সমামেশে, সাংবাদিক সম্মেলন করে একই দাবি তুলেছে এবং আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও অনুষ্ঠানে হামলা করেছে। ঐ সম্প্রদায়ের মানুষের উপর আক্রমণ করেছে, তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে, যা বর্তমানেও অব্যাহত আছে।বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মবিশ্বাসী, ভাষাভাষী, নৃগোষ্ঠী, মতাদর্শী ও লিঙ্গের মানুষ বসবাস করে। তারা বাংলাদেশের নাগরিক এবং আমরা বাংলাদেশের সকল নাগরিকের সমান অধিকারে বিশ্বাস করি। তাছাড়া, সংবিধানের ৪১ ধারা অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা আছে। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে যেকোনো ধর্মমত বিশ^াস করা এবং সেই ধর্মপালন ও চর্চা করা বা এর কোনোটিই না করাও প্রতিটি মানুষের নাগরিক অধিকার, তাই আহমদিয়াদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার এই দাবি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, নাগরিক অধিকার পরিপন্থী এবং আমাদের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। নারীপক্ষ’র স্পষ্ট অবস্থান, ধর্ম মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও চর্চা। ধর্ম নিয়ে সরকার বা অন্য কারো হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ধরনের সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক বক্তব্য ও অপতৎপরতা একটি সম্প্রদায়ে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা এবং ফৌজাদারি অপরাধের সামিল, যা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থিরতা-অরাজকতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। এহেন পরিস্থিতিতে নারীপক্ষ ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন। সরকারের কাছে নারীপক্ষ’র দাবি, এই অপতৎপরতা কঠোর হাতে দমন করুন; আহমদিয়া সম্প্রদায়সহ দেশের সকল বিশ্বাস ও মতের প্রতিটি নাগরিকের জান-মালের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা বিধানে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিন; অন্যথায় সরকারই আস্থাহীনতার সঙ্কটে পড়বে।
জনগণের প্রতি আহবান, এই ধরনের সকল অপতৎপরতা রুখে দাঁড়ান এবং প্রত্যেকের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার পক্ষে থাকুন।
বার্তা প্রেরক,
সাফিয়া আজীম
আন্দোলন সম্পাদক, নারীপক্ষ।