২৩ ভাদ্র ১৪৩২/৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
‘নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিডও)’র দুটি ধারায় গত প্রায় একচল্লিশ বছর ধরে চলে আসা সংরক্ষণ বহাল রেখেই ৯ বছর পর বাংলাদেশ থেকে এবার সিডওর ৯ম ও ১০ম পর্যায়ক্রমিক প্রতিবেদন একসঙ্গে একটি প্রতিবেদন হিসেবে চূড়ান্ত করেছে নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করে সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘে সিডও সনদ গৃহীত হয়। ১৯৮০ সালের ১ মার্চ বিভিন্ন দেশ সনদটিতে স্বাক্ষর করতে শুরু করে। ১৯৮১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে এ সনদ কার্যকর হয়।
বাংলাদেশ সরকার ১৯৮৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর সিডও সনদে অনুস্বাক্ষর করে। শুরুতে সনদের ২, ১৩ (ক), ১৬ (১) (গ) ও (চ) ধারার ওপর সংরক্ষণ রেখেছিল বাংলাদেশ। পরে ২ ও ১৬ (১) (গ) ধারার ওপর সংরক্ষণ বহাল রেখে বাকি দুটি থেকে তুলে নেয়। সনদের ২ নম্বর ধারায় বলা আছে, নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য নিরসনে শরিক দেশগুলো আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবে এবং আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কার করবে। ১৬.১ (গ) ধারায় বিয়ে ও বিয়ে বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে।
সিডও’র এই দু’টি ধারা থেকে সংরক্ষণ প্রত্যাহার না হওয়ায় নারীর পারিবারিক, ব্যক্তিগত ও বিয়ে সংক্রান্ত অধিকার প্রতিষ্ঠা কেবল কথার কথাই থেকে যাচ্ছে। নারীর উপর নির্যাতন ও সহিংসতাও কমছে না। আমাদের প্রশ্ন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া একটি আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সংঘটিত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকা সত্ত্বেও কেন তারা নারীর প্রতি বৈষম্যের মূল বীজ লুকিয়ে থাকা এই দু’টি ধারার উপর সংরক্ষণ তুলে নিতে পারেছে না?
নারীপক্ষ’র দাবি, পরিবার, রাষ্ট্র এবং ব্যক্তিজীবনসহ সর্বত্র নারী-পুরুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সহিংসতামুক্ত নারীর জীবন গড়তে ‘নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিডও)’র ২ ও ১৬ (১) (গ) ধারার ওপর বিরাজমান সংরক্ষণ সম্পূর্ণরূপে তুলে নেওয়া হোক।
সাফিয়া আজীম
আন্দোলন সম্পাদক, নারীপক্ষ।