আগস্ট ২৪, ২০২০
কক্সবাজারের চকোরিয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কর্তৃক দুই নারীকে নির্যাতন ও অপমান-অপদস্ত করার ঘটনায় নারীপক্ষ যাপরনাই ক্ষুব্ধ, হতাশ, মর্মাহত এবং হতবাক

স্মারক নং- না.প- ০৮/২০২০- ১১৬

৯ ভাদ্র ১৪২৭/২৪ আগস্ট ২০২০


প্রতিবাদ বিবৃতি

কক্সবাজারের চকোরিয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কর্তৃক দুই নারীকে নির্যাতন ও অপমান-অপদস্ত করার ঘটনায় নারীপক্ষ যাপরনাই ক্ষুব্ধ, হতাশ, মর্মাহত এবং হতবাক


দেশব্যাপী নারীনির্যাতনের ধারাবাহিকতার আরও একটি নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে গত ২১ আগস্ট ২০২০, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের একটি গ্রামে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবর এবং সরেজমিন পরিদর্শনে জানা যায়, ঐদিন সেখানে গরু চুরির অভিযোগ তুলে মা ও মেয়েকে কোমরে রশি দিয়ে বেঁধে এলাকায় ঘোরানো এবং পেটানো হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বলেছেন, অভিযুক্ত মা ও মেয়েকে রশি দিয়ে বেঁধে হারবাং ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আনার পর উক্ত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম তাদের আবার মারধর করেন। একপর্যায়ে ওই দুই নারীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেন ঐ চেয়ারম্যান।

এই নারীদ্বয় যদি সত্যিই গরু চুরির অপরাধ করে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ দেশে রয়েছে কিন্তু অতি উৎসাহী কিছু লোক, বিশেষকরে একজন জনপ্রতিনিধি এই নারীদ্বয়ের উপর যে অত্যাচার- নির্যাতন করেছে তা আইনের দৃষ্টিতে গর্হিত অপরাধ। এই ঘটনায় নারীপক্ষ যাপরনাই ক্ষুব্ধ, হতাশ, মর্মাহত এবং হতবাক। এ কোন স্বাধীন দেশে আমরা বসবাস করছি, যেখানে কথায় কথায় নারীকে এহেন অত্যাচার-নির্যাতন, অপমানের শিকার হতে হয়; তাও আবার জনপ্রতিনিধির দ্বারা? আমরা আরও হতবাক যে, শত শত স্থানীয় মানুষের সামনে নারীর উপর এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটলো অথচ তাদের মধ্য থেকে কোনরূপ প্রতিবাদ-প্রতিরোধ এলো না!

এখনই এর অবসান হওয়া জরুরী, তাই নারীপক্ষ সরকার ও প্রশাসনের কাছে জোড় দাবি জানাচ্ছে, চকরিয়ার এই ঘটনাসহ প্রতিটি নারীনির্যাতনের ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে বিচার নিশ্চিত করুন এবং ঘটনা প্রতিরোধে দ্রæত কার্যকর পদক্ষেপ নিন। সেইসাথে নারীপক্ষ সর্বমহলের প্রত্যেকের প্রতি আহবান জানাচ্ছে, নারীর উপর যেকোন ধরনের নির্যাতন থেকে নিজে বিরত থাকুন এবং অন্যকে বিরত রাখতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে রুখে দাঁড়ান।

তামান্না খান
আন্দোলন সম্পাদক
নারীপক্ষ।

 

 

Pin It on Pinterest

Share This