নারীপক্ষ

নারীর প্রতি সহিংসতা মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম এবং জনগনের অংশগ্রহণ জোরদারকরণ প্রকল্প

নারী ও শিশুর প্রতি ন্যায়বিচারঃ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০৩ প্রেক্ষিত গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠক

 

নারীপক্ষ নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আওতায় দীর্ঘদিন ধরে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছে। বাংলাদেশে সহিংসতার শিকার নারীর বিচার প্রাপ্তির জন্য বিশেষ আইন - নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০০৩ রয়েছে। নারীপক্ষ ১৯৯৮ থেকে পুলিশ, স্বাস্থ্য ও বিচার বিভাগের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন ২০০৩, প্রয়োগের কাঠামোগত ও পদ্ধতিগত সমস্যা চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেয়। এই আইনের আওতায় দায়েরকৃত ২৯টি ধর্ষণ, ২৫টি যৌতুক, ২টি অপহরণ, ১টি এসিড আক্রমণ, ৩টি দাহ্যসহ মোট ৬০টি মামলা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে। ২৭ জন সহিংসতার শিকার নারী ও ৯ জন অভিযুক্ত ব্যক্তির সাথে নিবিড় সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে মামলা দায়ের থেকে বিচারকার্য পর্যন্ত মামলার প্রক্রিয়া সম্পর্কে মতামত গ্রহণ করার মাধ্যমে গবেষণাটি সম্পন্ন করেছে। এই গবেষণা লদ্ধ ফলাফল নিয়ে ১পৌষ ১৪২৩/১৫ ডিসেম্বর ২০১৬, বৃহষ্পতিবার, নারী ও শিশুর প্রতি ন্যায়বিচারঃ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন প্রেক্ষিত একটি গোলটেবিল বৈঠক করা হয়েছে জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকায়। 


উক্ত গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন জেসমিন আরা বেগম, বিচারক, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল -১, বিশেষ আলোচক ছিলেন যথাক্রমে ফাতেমা সুলতানা শুভ্রা, সহকারী অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহনাজ হুদা, অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষ অতিথি ছিলেন শাহীন আনাম, নির্বাহী পরিচালক, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, গবেষণাটি উপস্থাপনা করেন মোঃ মামুনুর রশিদ, সহযোগী অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ইস্টার্ণ বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাশিদা হোসেন, সদস্য নারীপক্ষ এবং সভাপ্রধান ছিলেন এডভোকেট ইউ এম হাবিবুন নেসা, সদস্য, নারীপক্ষ।

 

সুপারিশসমূহ:
* সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৫৫(৪) এ বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি যখন ধর্ষণ বা শ্লীলতাহানীর চেষ্টার পর ধর্ষণের শিকার নারী বা অভিযোগকারী দুশ্চরিত্র কিনা তা পরীক্ষা করা যাবে। মূলত নারীর চরিত্র বিশ্লেষণ প্রক্রিয়া অভিযোগটিকে দূর্বল করে দেবার একটি সুযোগ সৃষ্টি করে। সাক্ষ্য আইনের মানব মর্যাদাহানিকর এই ধারার ১৫৫(৪) বিলোপ করা 
* সাক্ষীর নিরাপত্তাহীনতার জন্য সাক্ষীরা স্বাক্ষ্য দিতে ভয় পায় এবং নির্যাতনের শিকার নারী মামলা আপোষ করে নেয় বা কোর্টে উপস্থিত হয় না। এ সংক্রান্ত বিষয়ে কোন আইন নেই। সাক্ষীর নিরাপত্তা বা সুরক্ষা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে নির্যাতনের শিকার নারী এবং সাক্ষীর যাতায়াত, অবস্থান সহ সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় আইন তৈরী করা। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতা ছাড়াও অন্যান্য মামলার ক্ষেত্রেও সাক্ষী এবং ভুক্তভোগীগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। 
* সহিংসতার শিকার নারীরা যেন একটি প্রতিষ্ঠান থেকেই সব ধরণের সেবা পেতে পারে 
* সহিংসতার শিকার নারীদের মেডিকোলিগ্যাল পরীক্ষার প্রতিবেদনে লিখা হয়- স্তন ছোট, বড়, ঝুলে আছে, যৌন কাজে অভ্যস্ত ইত্যাদি লিখা বন্ধ করা
* সহিংসতার শিকার নারী বা ক্ষতিগ্রস্থ যে কোন ব্যক্তি কোন প্রতিষ্ঠানে কি ধরণের সেবা পাবে তা পাঠ্যসূচিতে অর্ন্তভক্ত করা
* প্রতিটি বিভাগে সরকারের জবাবদিহীতা নিশ্চিত করতে হবে
* বিষয় ও পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতার কারণে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনটি সয়ং সম্পূর্ণ নয়। এই আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত অন্যান্য আইনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই আইনটি সংশোধন করা প্রয়োজন ইত্যাদি।