নাসরীন হক স্মারক বক্তৃতা-২০২২


০৩ অগ্রহায়ণ/১৮ নভেম্বর নারী আন্দোলন ও মানবাধিকার কর্মী, নারীপক্ষর প্রয়াত সদস্য নাসরীন হক এর জন্মতিথী। এই উপলক্ষ্যে নারীপক্ষর আয়োজনে ঐদিন বিকাল ৪ টায় আন্তর্জালে নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিডও) এবং নারীর সমতার অধিকারের জন্য লড়াই শীর্ষক নাসরীন হক স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের বক্তা ছিলেন মালয়েশিয়ার শান্তি দায়রিয়াম, প্রতিষ্ঠাতা ইন্টারন্যাশনাল উইমেনস রাইটস একশন ওয়াচ এশিয়া প্যাসিফিক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ও অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাহীন সুলতান-নির্বাহী সদস্য ও প্রাক্তন সভানেত্রী, নারীপক্ষ। নাসরীন হক এর সম্পর্কে বলেন রেহানা সামদানী-নির্বাহী সদস্য ও প্রাক্তন সভানেত্রী, নারীপক্ষ।

শান্তি দারিয়াম বলেন, সাম্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সিডও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। এতে সামজিক ও রাজনৈতিকভাবে লিঙ্গ ভিত্তিক বৈষম্য নিরসনের সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা আছে। নারী-পুরুষের মধ্যে ঐতিহাসিক ও পদ্ধতিগত বৈষম্য দূর না করলে সামাজ পরিবর্তন হবে না। নারীর প্রতি অতীতে ঘটা বৈষম্য পোষাতে হবে, না পোষালে সমতা আসবে না। বৈষম্য একরৈখিক কোন বিষয় না। বৈষম্য বহুমাত্রিক এবং প্রজন্মান্তরে এর প্রভাব থাকে। তাই বৈষম্য দূরীকরণ সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রতিষ্ঠানিক সংস্কার দাবী করে। প্রশ্নত্তোর পর্ব দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

নাসরীন হক যে সকল অধিকার আদায়ের আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন তা শুধুমাত্র নারী অধিকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মৌলিক অধিকার এবং নারী মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন। সব ধরণের, সব শ্রেণীর, ভাষার, ধর্মের, সম্প্রদায়ের, জাতিসত্তার, যৌনপরিচিতির সর্বোপরি সামাজিক কোন পার্থক্যই তাঁর জন্য দেয়াল তৈরি করতে পারে নাই। সকলের দিকেই তিনি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিতেন।

নারীপক্ষ মনে করে, নাসরীন হক স্মারক বক্তৃতার আয়োজন তাঁর স্বপ্ন এবং কর্মতৎপরতাকে ধরে রাখার একটি বিশেষ উপায়।