নারীপক্ষর প্রতিবাদ অবস্থান কর্মসূচি
ধর্মীয় উন্মাদনা ও সহিংসতা মুক্ত বাংলাদেশ চাই


দেশে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি এবং নানা রকম হিংসাত্মক কার্যকলাপ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী তৎপরতার বিরুদ্ধে ধর্মীয় উন্মাদনা ও সহিংসতা মুক্ত বাংলাদেশ চাই শিরোনামে নারীপক্ষ ২৪ কার্তিক ১৪২৭/৯ নভেম্বর ২০২০, বিকাল ৩.৩০- ৪.৩০মি. নারীপক্ষ কার্যালয়ের সামনে (ধানমন্ডি ৫/এ, সাতমসজিদ রোড) প্রতিবাদ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। কর্মসূচিতে সচেতন সমাজ সেবা হিজড়া সংগঠন, সেক্স ওয়ার্কার্স নেটওয়ার্ক, সিডা, প্রাগ্রসর এর প্রতিনিধি, স্থানীয় জনগণসহ নারীপক্ষর সদস্য ও কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচিতে প্রচারপত্র পাঠ ও বিতরণ করা হয়।

ধর্মকে ব্যবহার করে প্রায়শঃই দেশে উন্মাদনা সৃষ্টি এবং নানা রকম হিংসাত্মক কার্যকলাপ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী তৎপরতা চালানো চর্চায় দাঁড়িয়েছে। এবারও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে গাজীপুর, বরগুনা, ময়মনসিংহ, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা ও মন্দির ভাঙচুর এবং আগুন দিয়ে হিন্দুদের বাড়িঘর পোড়ানো হয়েছে। লালমনিরহাটে কোরআন শরীফ অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ তুলে একজন শিক্ষককে প্রকাশ্য জনসমক্ষে পিটিয়ে মেরে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।

জাতি, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি, গোষ্ঠী নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিক স্বাধীনভাবে জীবন যাপন করবে; নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্ম পালন ও আচার-অনুষ্ঠান করবে; আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে- এটা জাতীয় আকাক্সক্ষা কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলী পুনর্বার প্রমাণ করে যে, দেশে আইনের শাসন শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশের সংবিধান সকল ধর্মাবলম্বীদের সমভাবে ধর্মচর্চা করার নিশ্চয়তা দিলেও বাস্তবে যে এর প্রতিফলন নেই বারংবার সংঘটিত এইসকল ঘটনায় তা-ই প্রতীয়মান হয়।

কর্মসূচি থেকে নারীপক্ষ দাবি জানায়,
* অনতিবিলম্বে পুলিশ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ধর্মকে ব্যবহার করে সকল প্রকার হিংসাত্মক কার্যকলাপ এবং উন্মাদনা সৃষ্টিকারী তৎপরতা বন্ধে দ্রু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্দেশ দিন।
* সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনির্মাণে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ মেয়াদী পদক্ষেপ, যেমন: বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে সকল মানুষের সম্মান ও মর্যাদা এবং মানুষে মানুষে সম-অধিকারের বিষয়টি যুক্ত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।
* সরকার কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বা করবে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করুন।

এছাড়া নারীপক্ষ সর্বমহলের প্রত্যেকের প্রতি আহবান জানিয়েছে, যে চেতনায় আমরা ভাষা আন্দোলন করেছি, মুক্তিযুদ্ধ করেছি সেই চেতনায় বলীয়ান হয়ে ধর্মকে ব্যবহার করে যেকোন ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হই, ঐক্যবদ্ধ ভাবে রুখে দাঁড়াই। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনির্মাণে ও মানবতা বোধ জাগ্রত করতে প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে উদ্যোগী হই, অন্যের উদ্যোগে সামিল হই।