ধর্মীয় উন্মাদনা ও সহিংসতা মুক্ত বাংলাদেশ চাই


ধর্মকে ব্যবহার করে প্রায়শঃই দেশে উন্মাদনা সৃষ্টি এবং নানারকম হিংসাত্মক কার্যকলাপ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী তৎপরতা চালানো চর্চায় দাঁড়িয়েছে। এবারও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে গাজীপুর, বরগুনা, ময়মনসিংহ, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা ও মন্দির ভাঙচুর এবং আগুন দিয়ে হিন্দুদের বাড়িঘর পোড়ানো হয়েছে। ঢাকার উত্তরার ৩নং সেক্টরের ফ্রেন্ডস ক্লাব মাঠে পূজা আয়োজন বন্ধ করতে কতিপয় এলাকাবাসী কর্তৃক নানাভাবে বাধা তৈরি করা হয়েছে। লালমনিরহাটে কোরআন শরীফ অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ তুলে একজন শিক্ষককে প্রকাশ্য জনসমক্ষে পিটিয়ে মেরে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এই সকল ঘটনায় নারীপক্ষ দুঃখভারাক্রান্ত এবং উদ্বিগ্ন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অনতিবিলম্বে প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

জাতি, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি, গোষ্ঠী নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিক স্বাধীনভাবে জীবন যাপন করবে; নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্ম পালন ও আচার-অনুষ্ঠান করবে; আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে- এটা জাতীয় আকাক্সক্ষা কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলী পুনর্বার প্রমাণ করে যে, দেশে আইনের শাসন শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশের সংবিধান সকল ধর্মাবলম্বীদের সমভাবে ধর্মচর্চা করার নিশ্চয়তা দিলেও বাস্তবে যে এর প্রতিফলন নেই বারংবার সংঘটিত এইসকল ঘটনায় তা-ই প্রতীয়মান হয়।

ধর্মীয় অনভূতি প্রতিটি ধর্মবিশ্বাসী মানুষেরই থাকে, তা সে সংখ্যাগুরু অথবা সংখ্যালঘু- যেকোন ধর্মেরই হোক না কেন। এই অনুভূতিতে আঘাত করাটা যেমন অনুচিত তেমন ধর্মকে ব্যবহার করে কোনরূপ সহিংস কার্যকলাপ, কোন ব্যক্তি বা সম্প্রদায় বা তার বাড়ি-ঘর- উপাসনালয়ের উপর হামলা, পোড়ানো অথবা কোনরূপ ক্ষতি সাধন করা বা হত্যা করা ফৌজদারী অপরাধ এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

ধর্মের নামে হিংসাত্মক কার্যকলাপ বন্ধ এবং উন্মাদনা নিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সর্বাধিক। সরকারের কাছে নারীপক্ষর দাবি, অনতিবিলম্বে পুলিশ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ধর্মকে ব্যবহার করে সকল প্রকার হিংসাত্মক কার্যকলাপ এবং উন্মাদনা সৃষ্টিকারী তৎপরতা বন্ধে দ্রত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্দেশ দিন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনির্মাণে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ মেয়াদী পদক্ষেপ, যেমন: বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে সকল মানুষের সম্মান ও মর্যাদা এবং মানুষে মানুষে সম-অধিকারের বিষয়টি যুক্ত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

নারীপক্ষ আরো দাবি জানাচ্ছে, উপরোক্ত বিষয়ে সরকার কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বা করবে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হোক।

সর্বমহলের প্রত্যেকের প্রতি নারীপক্ষ আহবান জানাচ্ছে, আসুন আমরা যে চেতনায় ভাষা আন্দোলন করেছি, মুক্তিযুদ্ধ করেছি সেই চেতনায় বলীয়ান হয়ে ধর্মকে ব্যবহার করে যেকোন ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হই, ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াই। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনির্মাণে ও মানবতা বোধ জাগ্রত করতে প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে উদ্যোগী হই, অন্যের উদ্যোগে সামিল হই।
 

২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭/৯ নভেম্বর ২০২০
নারীপক্ষ
জিপিও বক্স-৭২৩, ঢাকা-১০০০, ফোন : ৮৮০-২-৪৮১১১১৭৩, ৫৮১৫৩৯৬৭, ওয়েব সাইট: www.naripokkho.org.bd
প্রকাশকাল : ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭/৯ নভেম্বর ২০২০