২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪/ ১২ ডিসেম্বর ২০১৭


মুক্তিযুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের স্মরণে নারীপক্ষর শ্রদ্ধাঞ্জলি
আলোর স্মরণে কাটুক আঁধার- ২০১৭


২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪/১২ ডিসেম্বর ২০১৭ সন্ধ্যা ৫.১৫ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মুক্তিযুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের স্মরণে নারীপক্ষর বিশেষ স্মরণ অনুষ্ঠান আলোর স্মরণে কাটুক আঁধার নিবেদিত। ১৯৮৮ সাল থেকে প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসে বিজয় দিবসের প্রাক্কালে মুক্তিযুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের স্মরণে বিভিন্ন প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করে নারীপক্ষ নিয়মিতভাবে আলোর স্মরণে কাটুক আঁধার অনুষ্ঠানটি উদযাপন করে আসছে।

গত ২৫ আগস্ট ২০১৭ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানে সাধারণ মানুষের উপর আবারও আক্রমণ, নির্যাতন, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াও শুরু হয় এবং তা অব্যাহতভাবে চলতে থাকে। নিপীড়িত ও নিরাশ্রয় এই রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে আসতে থাকে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের তথ্যমতে ২৫ আগস্ট-২২ নভেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত ৬ লাখ ২৪ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমান রোহিঙ্গা শরণার্থী পরিস্থিতি আমাদেরকে ৭১ এর সেই যুদ্ধাবস্থা মনে করিয়ে দেয়। আমাদের এবারের প্রতিপাদ্য ৭১ এ আমরা, আর ১৭ এ রোহিঙ্গা: প্রেক্ষাপটের ভিন্নতা ও অভিন্নতা।

এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আগুনের পরশ মনি ছোঁয়াও প্রাণে গানের সাথে সাথে মুক্তিযুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের স্মরণে উপস্থিত সকলে একটি করে আলোর শিখা জ্বালিয়ে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন নারীপক্ষর সভানেত্রী রেহানা সামদানী। ৭১ এ রীনা রায় স্মরণার্থী অবস্থার সেই স্মৃতিচারণ করেন। বাংলাদেশে বর্তমান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কাজের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন জুলিয়ান ফ্রান্সিস ও গোলাম মোস্তফা।

যশোর রোড আবৃত্তি করেন ইকবাল আহমেদ। বর্ণা ও সুরতীর্থ গান পরিবেশন করেন। নারীপক্ষর সভানেত্রী রেহানা সামদানী এর ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০০ জন উপস্থিত ছিলেন।